পৃষ্ঠাসমূহ

বুধবার, ২০ জুন, ২০১২

ছায়ালীন - মোঃ জাফর ইকবাল

  
ভৌতিক গল্পের বই। বইটি ডাউনলোড করে নিচের লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন ৷

ছায়ালীন - মোঃ জাফর ইকবাল

https://www.box.com/s/q24tmkvk1zcfdscc930f

শুক্রবার, ১৫ জুন, ২০১২

কোব্বলা শেষ পর্ব

ড. হায়দার মবিন

মবিন সাহেব অতি সজ্জন ব্যক্তি। নিখুঁত ভদ্রলোক। গল্প-উপন্যাসের অ্যাবসেন্ড মাইন্ডেড প্রফেসরদের
মতো উদ্ভট পোশাক পড়া কিংবা উল্টাপাল্টা হাস্যকর কান্ডকারখানাও করে বেড়ান না তিনি। কিন্তু পাড়ার লোকজন তাকে একটু সন্দেহের চোখেই দেখে। কারণ আর কিছুই না, তার গবেষণার বিষয়বন্তু। সারা দুনিয়ার মেধাবীরা যখন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় গবেষণা করছে, তখন ড. হায়দার মবিন গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছেন প্রেততত্ত্ব। যুক্তরাষ্ট্রেও ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়তে গিয়ে সাত বছর মার্কিন মুল্লুকে কাটিয়ে আসেন
তিনি। এ সমটির বেশিরভাগই তিনি ব্যয় করেছেন প্রেততত্ত্বর গবেষণায়। ইউনিভার্সিটির ডর্মের রুমমেট জেসনের পাল্লায় পড়ে প্রথম এ বিষয়ে আগ্রহ জন্মায়। জেসন ছিল প্রেস সাধকদের একটি চক্রের সদস্য। হায়দার মবিন অবশ্য জেনসের পথে হাঁটেননি। প্রেত বা অশুভ আত্মার স্বরূপ সন্ধানে গবেণা করেছেন তিনি। কিভাবে এসব অশুভ শক্তিকে পরাস্ত করা যায় সে বিষয়টিই ছিল তার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। অশুভ শক্তি নিয়ে গবেষণার জন্য কোথায় কোথায় না গিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের তাবৎ শহর থেকে শুরু করে পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল কিছুই বাদ রাখেন নি। অবশ্য যে বিষয়ে পড়তে গিয়েছিলেন তাতেও একটা ডিগ্রি নিয়ে ফিরেছিলেন। ভাগ্যিস এ কাজটা করেছিলেন, নয়তো দেশে ফিরে গ্রাসাচ্ছাদনই মুশ্কিল কয়ে পড়তো। এখানেতো আর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ভুততত্ব’ পড়ানো হয় না।

কোব্বলা পর্ব ৩

আবুল খায়ের

খুব বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অসুস্থ্যতা না থাকলে প্রতি ওয়াক্তের নামাজ মসজিদে গিয়েই পড়ার চেষ্টা করেন খায়ের সাহেব। দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। আস সালাতুল খাইরুল মিনাননাউম.. .. .. ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম- মুয়াজ্জিনের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আলস্য ঝেড়ে বিছানায় উঠে বসেন।
পা বাড়ান মসজিদের দিকে। কাল রাত থেকেই আকাশে মেঘ, সকালেও এর রেশ রয়ে গেছে। সদর দরজা খুলে রাস্তায় পা দিতেই একটা দৃশ্য নজর কেড়ে নেয়। বিভৎস এই দৃশ্য থেকে চোখ ফেরানো মুশ্কিল আবার এর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকাও সম্ভব নয়। বাড়িরগেটের সামনেই একটি মৃত কুকুর পড়ে আছে। কুকুরটির পেছনের অর্ধেকটা উধাও, মনে হয় কেউ যেন খুবলে খেয়ে নিয়েছে কুকুরের পেছনের দুটো পাসহ অর্ধেকটা। পেটের কাছ থেকে সামনের দুটো পা আর মাথাটা নিয়ে নিথর
পড়ে আছে কুকুরটি। নারিভুরি ছড়িয়ে আছে রাস্তায়। পুরো রাস্তা রক্তে মাখামাখি। দৃশ্যটির মধ্যে এমন এক অমানুষিক ব্যপার রয়েছে যা খায়ের সাহেবের পুরো অস্তিত্বকে কাঁপিয়ে দেয়।

কোব্বলা পর্ব ২

 একটা দু:স্বপ্ন দখে ঘুম ভেঙ্গে যায় রিমির। বুকটা ধ্বক ধ্বককরতে থাকে। গলা শুকিয়ে কাঠ। বালিশের পাশ থেকে মোবাইল ফোনটা খুঁজে নিয়ে বোতাম টিপে সময় দেখে। ভোর ৪টা ২২ মিনিট। ঠিক এসময় চারদিক থেকে ভেসে আসে ফজরের আজানের ধ্বনি। বিছানায় শুয়ে শুয়ে একের পর এক মসজিদ থেকে ভেসে আসা আজান শুনতে শুনতে একটু আগে দেখা স্বপ্নটা মনে করার চেষ্টা করে রিমি। কিন্তু কী আশ্চর্য! কিছুই মনে পড়ছে না। অথচ, সেই দু:স্বপ্নের রেশ এখনও আছে। গায়ের সবগুলো লোম খাড়া হয়ে আছে। বুকের ভেতর এখনও উলট পালট হচ্ছে।দাদী বলতেন, ভোরের স্বপ্ন
নাকি সত্যি হয়। কথাটি মনে পড়ে আবারও নতুন করে আতঙ্ক জাগে রিমির ভেতর। অজানা আশঙ্কায়
বুকটা কাঁপতে থাকে। বান্ধবীদের কাছে শুনেছে বিয়ের আগে নাকি মেয়েদের মনে অনেক রকম অজানা ভয়-আতঙ্ক তৈরি হয়। হয়তো নতুন পরিবেশে, নতুন একজন মানুষের সঙ্গে জীবন যাপনের অনিশ্চয়তা থেকেই এই আতঙ্কের সৃষ্টি। কিন্তু যার সঙ্গে রিমির বিয়ে হচ্ছে সে তো তার কাছে নতুন
কেউ নয়। সেই কৈশরে যখন নিজের ভেতর রহস্যময় পরিবর্তনগুলো টের পাচ্ছিলো, তখন থেকেই এই মানুষটিকে মনে প্রাণে চাইছে সে। প্রথমে এই ভালোলাগাটি ছিল নিছক মুগ্ধতা মাখানো বিষ্ময়। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারে, এই মানুষটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তার নিয়তি।

কোব্বলা পর্ব ১

তন্ময় চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে চমকে উঠে তন্ময়। আগুন গরম চা। তবে তার চমকে উঠার কারণ চায়ের উত্তাপ নয়, চাতো গরমই হবে। চমকে উঠে চায়ের স্বাদে। এই অজ পাড়া গাঁয়ের ছাপড়া চায়ের দোকানের চা যে এতোটা ভালো হবে তা ছিল কল্পনার অতীত। চায়ের কারিগরের দিকে দৃষ্টি ফেরায়
তন্ময়। পরণের সার্টটি পুরোনো হলেও বেশ পরিষ্কার করে কাচা। প্রচন্ড গরমে আমি দর দর করে ঘামছি, অথচ এই লোক দিব্যি চুলোর পাশে বসে চা বানাচ্ছে। চোখে- মুখে বিরক্তির কোনো চিহ্ণই নেই। শরীরে নেই এক ফোটা ঘামের আভাস। চমৎকার চায়ের স্বাদ নিতে নিতে তন্ময়ের মনের সকল
বিরক্তি ধীরে ধীরে কেটে যেতে থাকে। বিরক্ত হওয়ার অবশ্য যথেষ্ট কারণ আছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ের পাশে এই ছাপড়া দোকানে সে বসে আছে ঝাড়া একঘন্টা ধরে। তাকে নিতে যার আসার কথা তার কোনো পাত্তা নাই। বার বার মোবাইলে ফোন করে শুনতে পাচ্ছে-সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে গরমে জান ভাজা ভাজা। তন্ময়ের আমেরিকা প্রবাসী মামার শখ হয়েছে গাজীপুরে কিছু জমি  কিনে বাগান বাড়ি বানাবেন। সেই জমি দেখতেই আসা। কিন্তু জমির দালাল দোলোয়ারের কোনো পাত্তা নাই। অথচ কাল রাতেও কথা হয়েছে বাঘের বাজার বাস স্ট্যান্ডে সে আমার জন্য মোটর সাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করবে। মোটর সাইকেল তো দূরের কথা, কোনো সাইকেলেরও দেখা নেই। কব্জি উল্টে ঘড়ি দেখে। আর পনের মিনিট; এর মধ্যে দেলোয়ার না এলে টাটা বাইবাই। এর মধ্যে আর থাকবে না তন্ময়। সময় কাটানোর জন্য চায়ের দোকানীর সঙ্গে আলাপ জুরে দেয়।

 'ভাই কী এই এলাকার মানুষ?' মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় দোকানী।
 'তাহলে তো আপনি দেলোয়ারকে চিনেন?'
 এবারও ইতিবাচকভঙ্গিতে মাথা নাড়ে। বোঝা গেল চা বিক্রেতা আলোচনায় আগ্রহী নয়। সময়তো কাটাতে হবে! তাই চা বিক্রেতার নিরুৎসাহ উপেক্ষা করে একতরফা আলাপ চালিয়ে যায় তন্ময়। 'আমাকে নিতে তার আসার কথা, আর মোবাইলও বন্ধ।' 
এবার তার দিকে চোখ তুলে তাকায় চা বিক্রেতা। 
'দেলোয়ারের তো হুন্ডা একছিডেন হইছে। হেয় আইতে পারবো না।' 
খবরটা শুনে চমকে উঠে তন্ময়। ওহহো, তাহলে তো বসে থেকে লাভ নেই। পরের বাস লোকাল হোক আর সরাসরি হোক, সেটাই ধরতে হবে। লোকাল হলে গাজীপুর গিয়ে বাস বদলে নিলেই হবে। আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠে দাঁড়ায়। মানিব্যাগ বের করে চায়ের দাম চুকায়। খুচরা টাকা ফেরত দিতে দিতে চায়ের দোকানী বলে 
'ভাইজান কী ঢাকা থাকেন?'
 'হ্যা' 
'অখনই চইলা যাইবেন?'
 তার প্রশ্নে একটু অবাক হয় তন্ময়। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়। আলটপকা এই প্রশ্নের জন্যই হয়তো একটু লজ্জিত বোধ করে দোকানী। দাঁত বের করে একটু বিব্রত হাসি দিয়ে বলে, 
'আপনের হাতে সময় থাকলে একটু বসেন।'
'কেন কিছু বলতে চান আমাকে?'
এবার বেশ অবাক হয় তন্ময়। জানা নেই শোনা নেই এই চায়ের দোকানীর কী কথা থাকতে পারে তার সঙ্গে? সেই সঙ্গে বেশ একটু কৌতুহলও বোধ করে। শোনাই যাক না কী বলতে চায় এই অপরিচিত দোকানী! আরেক কাপ চায়ের অর্ডার দিয়ে জুত হয়ে বসে।
'বলেন কী কথা।' বেশ উদার ভঙ্গীতে বলে। 

'সবার আগে আপনার নামটা বলেন। নাম জানা না থাকলে আলাপ করে আরাম পাই না।'
'আলম।'
এক কথায় আমার প্রশ্নের জবাব দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকে আলম। মনে মনে কথাগুলো সাজিয়ে নেয়। কিংবা গল্পটি কোথা থেকে শুরু করবে তা ঠিক করে নেয়। একটু পর গলা ঝেড়ে বলতে শুরু করে।
'সে আমার লগেই থাকে। তিন বছর ধইরা আছে। তার ডরে আমি রাইতে কুনু খানে যাইবার পারিনা। দেখেন, আশে পাশের দুকানে কাস্টমারেরভিড়, কিন্তু আমার দুকানে একখান মাছিও বয় না। গেরামের লুকজন আমার লগে মিশে না। আমি বাই এক রকম এক ঘইরা।' আলমের কথার মাথা-মুন্ডু কিছুই
বুঝতে পারলাম না। তবে আশপাশের দোকানগুলোতে সত্যি অনেক গ্রাহক, আর আলমের দোকানে আমি একা। কিন্তু এতেও কিছু পরিষ্কার হলো না। তন্ময়ের অবস্থা আঁচ করেই আলম গোড়া থেকে তার গল্পটি বলতে শুরু করে। তার কাছ থেকে শোনা ঘটনাটির সারাংশ হচ্ছে-
 

তিন বছর আগে পৌষ মাসে খালুর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে বাগেরহাটের খোন্তাকাটায় যায় আলম। সেখানে গিয়ে জানতে পারে একটি বাড়িতে প্রতি বুধবার জ্বীন নামানো হয়। সেই জ্বীন মানুষের রোগ-শোকের নিদান দেওয়া ছাড়াও প্রেমে ব্যর্থতা, আর্থিক উন্নতি, পরীক্ষায় পাশ, হারানো স্বজনকে খুঁজে দেওয়াসহ
সব ধরণের সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। কৌতুহলী আলম হাজির হয় সেই বাড়িতে। জ্বীন নামানোর
পর্বটি আবার দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত। তবে শর্ত হচ্ছে পাক- পবিত্র পোশাক পরে এবং ওজু করে আসরে বসতে হবে। সব নিয়ম মেনেই আলম দুরু দুরু বুকে অন্ধকার ঘরে বসে থাকে। সেখানেই কোব্বালার সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাত। এর পর থেকেই জ্বীন কোব্বালা তার সঙ্গে আছে।


হাইওয়ে ধরে সাঁই সাঁই করে বাস যাচ্ছে-আসছে। চারদিতে গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ। বাস স্ট্যান্ডে হাজারো মানুষের আনা-গোনা। এই পরিবেশে এ ধরণের একটি আষাড়ে ভুতের গল্প! হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারে না তন্ময়। চা দোকানী আলমের মানষিক সুস্থ্যতা নিয়ে এবার সন্দেহ জাগে। আর মনে মনে নিজেতে গাল দেয়, এই ছেদো গপ্প শুনে সময় নষ্ট করার জন্য। তন্ময়ের মনের অবস্থা আঁচ
করতে পারে আলম।
'আপনের পকেটের মানিব্যাগটা যে আপনেরে দিছে হ্যায় আপেনেরে ছাইরা চইলা গেছে। অনেক দূরে।'
ফ্যাল ফ্যাল করে আলমের দিকে তাকিয়ে থাকে তন্ময়। বিচিত্র অনুভুতি খেলা করতে থাকে তার ভেতর। তন্ময়কে ছেড়ে শ্বেতা ডিভি লটারি পওয়া এক যুবকের হাত ধরে হাসতে হাসতে আমেরিকা পাড়ি জমিয়েছে। কিন্তু এ কথা এই চায়ের দোকানদান আলমের কিছুতেই জানার কথা না। আস্তে আস্তে তন্ময়ের হাত- পা ঠান্ডা হয়ে আসে। তীব্র চোখে আলম আলম তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
'আমারে বিশ্বাস না করতে পারেন, কিন্তুক কোব্বালারে বিশ্বাস না করনের কুনু পথ নাই।'
দীর্ঘশ্বাস ফেলে আলম বলতে শুরু করে,

 'পরথম পরথম খুব যন্ত্রণা দিছে। ঘাড় বাইয়া মাথায় উইঠা যাইতো। হের পরে আমার হইতো বুদ্ধি নাশ। কী কী কাম যে করতাম, নিজেই কইতে পারতাম না। একবারতো দাও দিয়া কোপাইয়া এক
ল্যাংড়া ফকিররে মাইরাই ফালাইলাম। তয় কেউ দেখনের
আগেও সইরা পরছিলাম বইলা থানা-পুলিশের ঝামেলায় পড়িনাই। হের পরেও কোব্বালা আমারে দিয়ে আরো কতগুলান খুন করাইছে। তয় হেয় খুব চালাক, আমারে ধরা খাওয়ায় নাই।
একবারতো গেরামের লুকজন মিলা আমার ধইরা- বাইন্দা পাবনা মেন্টাল হসপিটালে পাডাইলো। কিন্তুক হেইখানে আমার ওয়ার্ডের দুইজন নার্স আর একটা আয়া খুন হওনের পর হাসপাতাল থিকা আমার বাইর কইরা দিছে।'
মোহাবিষ্টের মতো আলমের বিচিত্র কাহিনী শুনে যায় তন্ময়।
'তয় দিনে দিনে আমিও কোব্বালারে বশ করন শিখছি। অখন আর মাথাত চড়তে দেই না। সব সময়
কমরের নীচে রাখনের চেষ্টা করি। তয় রাইতে হের উপর আমার কন্টোল থাকেনা। হের লেইগা রাইতে নিজের ঘরেই বাইরে দিয়া তালা মাইরা শুই।'

তন্ময় বুঝতে পারে না আলমের কথাগুলো কতোটুকু বিশ্বাসযোগ্য। আর কেনই বা তাকে এসব গল্প শোনাচ্ছে!
'কোব্বালার মতো খবিস জ্বীনের পাল্লায় যদি পরেন, তাইলে মনে রাখবেন, কুনু সময় হেরে মাথাত উঠতে দিবেন না। বসে রাখবেন। একবার যুদি মাথাত উঠে, তাইলে হেয় আপনের বুদ্ধিরে বশে নিবো। তখন হেয় আপনেরে দিয়া যা খুশি তা করাইতে পারবো। কোব্বালার মুশ্কিল কী জানেন, হেয় বেশি দিন একজনরে ভর কইরা থাকতে পারে না। যখনই হেই মানুষটা তারে বশ করন শিখা যায়, কথনই কোব্বালা নতুন আশ্রয় খুজতে থাকে। অখন আর কোব্বালা আমারে না, আমিই কোব্বালারে চালাই। এখন কোব্বালা নতুন কাউকে খুঁজছে' এটুকু বলে থামে আলম। দু চোখ তুলে সরাসরি তাকায় তন্ময়ের দিকে। তার চোখদুটো যেন তার   কপাল ভেদ করে সরাসরি মস্তিষ্ক দেখতে পাচ্ছে। তন্ময়ের মেরুদন্ড বেয়ে শীতল স্রোত নেমে যায়। ভেতর থেকে কে যেন ক্রমাগত তাড়া দিতে থাকে-পালাও পালও। ছিটকে দোকান থেকে বেড়িয়ে আসে। হিতাহিত জ্ঞানশূন্যভাবে সামনে যে বাসটি পায় ঝড়ের বেগে চড়ে বসে তাতে। একটু পরই লক্ষ্য করে এটি ঢাকাগামী নয়,
ময়মনসিংহের দিকে চলছে। যাই হোক পরে বাস বদলে নেওয়া যাবে। ঘাম দিয়ে যেন জ্বর ছাড়ে। ধাতস্ত হয়ে একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ভাবতে থাকে তন্ময়। এবার নিজেকে কেমন যেন বোকা লাগে। দিনে দুপুরে এমন একটি উদ্ভট ভুতের গল্প শুনে ভয়ে দৌড়ে পালালো সে! যাই হোক বাস পাল্টে ঢাকামুখী একটি সরাসরি বাসের সিটে বসে মথা এলিয়ে দেয়। সারাদিন খুব ধকল গেল।
চোখদুটো একটু লেগে এসেছিল হয়তো। হঠাৎ ঘাড়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করে তন্ময়। দু চোখে আঁধার নেমে আসে। অন্ধকারে ডুবে যেতে যেতে হলদেটে ক্রুর দুটি চোখ দেখতে পায়। একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে। ওই চোখদুটি যেন তন্ময়ের চোখের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। মাথার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে যায় হঠাৎ। তীব্র একটি জান্তব বোটকা গন্ধে গা গুলিয়ে উঠে। তন্ময় বুঝতে পারে কোব্বালা নতুন আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।

( চলবে )

বুধবার, ১৩ জুন, ২০১২

"নির্বাচিত ভূতের গল্প" - হুমায়ূন আহমেদ

ভৌতিক গল্পের বই। বইটি ডাউনলোড করে নিচের লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন ৷

 

"নির্বাচিত ভূতের গল্প" - হুমায়ূন আহমেদ

 link: http://www.mediafire.com/?2rt79rbiq04vrt2

মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১২

পুফি - হুমায়ূন আহমেদ

ভৌতিক গল্পের বই। বইটি ডাউনলোড করে নিচের লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন ৷



পুফি - হুমায়ূন আহমেদ

প্রেত - জাফর ইকবাল

ভৌতিক গল্পের বই। বইটি ডাউনলোড করে নিচের লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন ৷

 

  প্রেত - জাফর ইকবাল

http://www.mediafire.com/?ocu1bu5r73bdo6d 

ভৌতিক ৬

থাবা অনীশ দাস অপু ‘অনেকদিন আগে বরিশালের বাবুগঞ্জ থানার দেহেরগতি নামে ছোট একটি গাঁয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এক দানব। দানবটাকে কেউ দেখেনি। শুধু তার অস্তিত্বের প্রমাণ ছিল নির্মম শিকারের বলি হওয়া গ্রামবাসী।’

একইভাবে খুন হয়ে যেত সবাই- প্রত্যেকের ঘাড়ে থাবার চিহ্ন। দানব দশটা নখ বসিয়ে দিতো শিকারের ঘাড়ে। শুরুতে মানুষ নয়, ছোটখাট প্রাণী দানবটির শিকার হচ্ছিল। একদিন সকালে এক কৃষক ঘুম থেকে উঠে দেখে তার তিনটা ছাগল রক্তাক্ত অবস্থায় মরে পড়ে রয়েছে। এরপরে গাঁয়ের তিনটে পোষা কুকুরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সবার ঘাড়ে অদ্ভুত থাবার চিহ্ন।গুজব ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। প্রাণীগুলোর অন্তিমদশার কথা জানে সবাই। কিন্তু কেউ বলতে পারে না কীভাবে মারা গেল জানোয়ারগুলো। একটি বাছুরও রক্তক্ষরণে মারা গেল। নিরীহ প্রাণীটির ঘাড়ে শিরা টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে দশ আঙুলে। ঘাড়ে দশটি ধারাল নখের চিহ্ন। এরপর সাবধান হয়ে গেল গ্রামবাসী। বিছানার পাশে দা-কুড়াল-খন্তা রেখে তারা ঘুমাতে লাগল। গোয়াল ঘরে তালা মেরে রাখা হলো পোষা জন্তুদের।
গোটা গাঁয়ে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। নানানজনে নানান গল্প বানাতে লাগলো। একে অন্যের দিকে তারা সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায়। এরপরে ঘটল সেই ঘটনা-যে ভয়টা এতদিন সবাইকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। দানব হামলা চালালো মানুষের ওপর। আক্রমণের শিকার হলো মাতাল জমির উদ্দিন। একদিন সকালে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল তাকে। ঘাড়ে দশটা নখ বসানো চিহ্ন। গর্ত হয়ে আছে। কুকুর, ছাগল এবং বাছুরের মত একই পরিণতি হয়েছে তার। প্রবল রক্তক্ষরণে মারা গেছে। তিন কুলে যার কেউ নেই সেই ভবঘুরে জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে গাঁয়ের মানুষ শোক প্রকাশ করলো না, তবে ভয়ে কলজে শুকিয়ে গেল সবার। কারণ সবাই জেনে গেছে মানুষ শিকারেও অরুচি নেই দানবের। যে কেউ তার শিকার হতে পারে।

ভীত-সন্ত্রস্ত গ্রামবাসী এবারে গড়ে তুললো একটি স্বেচ্ছাসেবী দল। তারা রাতের বেলা পালা করে গ্রাম পাহারা দেবে। তবে মুশকিল হলো কেউ জানে না কীসের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছে। লিটু আর টিটু নামে দুই ভাইকে করা হলো সেচ্ছাসেবী দলের নেতা। এরা গাঁয়ের সবচেয়ে সাহসী দুই তরুণ। একমাত্র এদের বাড়িতেই দু’টি বন্দুক আছে। বন্দুক দিয়ে তারা মাঝে মাঝে গাঁয়ের পাশের জঙ্গলে শিকার করে। আর এদের বাড়ি জঙ্গলের ধারেই। এবং লোকের ধারণা দানবটা জঙ্গলেই আস্তানা গেড়েছে। ওদের বাছুরটাকেই মেরে ফেলেছে দানব।

সেচ্ছাসেবী দল গঠন হওয়ার পরে লিটু-টিটু বাড়ি গেল কীভাবে রাতে পাহারা দেবে তা নিয়ে আলোচনা করতে। শীতের রাত। তাই রান্নাঘরে উনুন জ্বেলে বসলো দুই ভাই। ওদের মা নেই। বাবা আছে। আর বুড়ি দাদী। দাদী প্রায় বেশিরভাগ সময় চুলোর পাশে বসে থাকে গায়ে কালো একটা চাদর জড়িয়ে। উনুনের উত্তাপে শরীর গরম রাখে।‘আজ রাত থেকেই শুরু পাহারা,’ নিচু গলায় বলল বড় ভাই লিটু। ‘দলনেতা হিসেবে আমাদের ওপর এ দায়িত্ব বর্তেছে। তা ছাড়া অন্যরা এখনই পাহারায় যেতে ভয় পাচ্ছে।’
‘হুঁ,’ সায় দিল ছোট ভাই টিটু। ‘ওটা-যাই হোক না কেন-প্রতি পাঁচদিন পরপর হামলা চালায়। জমির উদ্দিন মারা গেছে আজ পাঁচদিন হলো। আজ রাতে আবার ওটা হামলা চালাতে পারে। কাজেই আজই পাহারা বসাতে হবে।’
‘তোরা পাহারা দিতে যাচ্ছিস যা,’ বলে উঠলো ওদের বাবা।
‘তবে কিসের সঙ্গে টক্কর দিবি সে কথা মনে থাকে যেন। ওটা কিন্তু আকস্মিক হামলা চালায়। এ পর্যন্ত যে ক’টা হামলা হয়েছে, ধস্তাধস্তির কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কাজেই খুব সাবধান। আম্মা, আপনি কি বলেন ?
চুলোর পাশে বসা দাদী তাঁর ছেলের দিকে একবার চোখ তুলে চাইলেন। কেন জানি শিউরে উঠলেন। তারপর আবার মুখ নামিয়ে তাকিয়ে রইলেন জ্বলন্ত চুল্লির দিকে। ওরা তিনজন নিজেদের আলোচনায় ফিরে গেল। বুড়ির কাছ থেকে অবশ্য কোনও জবাব আশাও করেনি। কারণ দাদী স্বল্পবাক মানুষ। তা ছাড়া বেশ ক’বছর ধরে তাঁর মাথারও ঠিক নেই। হঠাৎ হঠাৎ উল্টোপাল্টা সব কাজ করে বসেন।
লিটু তাদের পরিকল্পনার কথা জানালো বাবাকে। ‘আমি আর টিটু আজ রাতে বন্দুক নিয়ে জঙ্গলে যাব। তবে জঙ্গলে ঢুকব না। জঙ্গল আর গাঁয়ের মাঝখানের রাস্তায় পাহারা দেব। দানবটা যদি আসেই আমাদের চোখ এড়িয়ে গাঁয়ে ঢুকতে পারবে না।’
‘তোরা পাহারা দিবি কিভাবে?’ জানতে চাইল উদ্বিগ্ন বাবা।
‘আমরা একজন আরেকজনের ওপর নজর রাখব,’ জবাব দিল লিটু। ‘হাঁক-চিৎকার দিলে শোনা যায় এরকম দূরত্বে থাকব দু’জন। জঙ্গলের দিকে চোখ থাকবে আমাদের। দানব যদি সত্যি জঙ্গলে থাকে, বেরুনো মাত্র ওকে গুলি করব।’
‘কাউকে না কাউকে তো কাজটা করতেই হবে.’ টিটু বললো তার বাবাকে। ‘জানি না দানবের পরবর্তী শিকার কে হবে, তবে হাত-পা গুটিয়ে অসহায়ের মতো আর বসে থাকা যায় না।’
বাবা মোড়া ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। দুই ছেলেকে জড়িয়ে ধরলো বুকে। ‘বেঁচে বর্তে ফিরে আসিস, বাপ।’ বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলল সে।
লিটু দেয়ালে ঝোলানো বন্দুক জোড়া নামাল। টিটু কাঠের সিন্দুক খুলে ধারাল দু’টি রাম দা বের করল। একটা দিল বড় ভাইকে। নিজের কাছে রাখল অন্যটা। তারপর দাদীকে সালাম করে বেরিয়ে পড়ল দু’জনে।
বাইরে ঘোর অন্ধকার। পশ্চিমাকাশে কাস্তের মত একফালি বাঁকানো চাঁদ। পুবর্দিকে পা বাড়াল দুই ভাই। ওদিকেই জঙ্গল। ওরা যেখানটাতে পাহারায় দাঁড়াবে ভেবেছে, কাছাকাছি আসতে ফিসফিস করল টিটু, ‘ভাবছি ওটা দেখতে কেমন।’
‘আমিও একই কথা ভাবছি, ‘বলল লিটু। ‘হয়তো কোনও দানব পাখি-টাখি হবে। সাঁৎ করে আকাশ থেকে নেমে এসে ঘাড়ের শিরা ছিঁড়ে পালিয়ে যায়।’
দু’জনেই আকাশে তাকাল। পাতলা, সরু চাঁদটিকে ঘিরে আছে মেঘ। আকাশ থেকে কিচু উড়ে এলেও আঁধারে ঠাহর করা যাবে না।
‘ওটা মাটির নিচের কোনও প্রাণীও হতে পারে,’ মৃদু গলায় মন্ত্রব্য করল টিটু। ‘মাটিতে গর্ত খুঁড়ে থাকে। সুযোগ বুঝে হামলা চালিয়ে বসে পেছন থেকে।’
ছোটভাইয়ের কথা শুনে গা কেমন ছমছম করে ওঠে বড়ভাইয়ের। পেছন ফিরে তাকায় সে। দেখাদেখি টিটুও। কিন্তু নিকষ আঁধারে কিছুই দেখা যায় না। অনেকক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল দুই ভাই। শেষে নীরবতা ভাঙল লিটু। ‘চল, যে যার জায়াগায় গিয়ে দাঁড়াই। তবে বেশিদূর যাসনে। হাঁক ছাড়লেই যেন সাড়া পাই।’

দু’ভাই দু’দিকে চললো। লম্বা লম্বা চল্লিশ কদম ফেলে দাঁড়িয়ে পড়ল।
অন্ধকারে বন্দুকে গুলি ভরল লিটু। তারপর রামদা’টা নরম মাটিতে পুঁতল। রামদা’র পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো।চল্লিশ কদম দূরে, অন্ধকারে ভীত ভঙ্গিতে বন্দুকে হাত বুলাচ্ছে টিটু। তার হাত কাঁপছে। এতদিন জঙ্গলে খরগোশ, বুন বেড়াল এবং বন মোরগ ছাড়া কিছু শিকার করেনি। সাহস বলে যতই নাম-ডাক থাকুক, ভূতের ভয় তার বেজায়। স্রেফ লজ্জায় না বলতে পারেনি। বাধ্য হয়ে আসতে হয়েছে পাহারায়। দানবটা ভূত-প্রেত হতে পারে। নইলে তাকে কেউ এতদিন দেখতে পায়নি কেন? ভূতের বিরুদ্ধে কি বন্দুক দিয়ে লড়াই করা চলে? আর ওটা যদি ভূত না-ও হয়, ভয়ঙ্কর কোনও জন্তুও হয়, প্রয়োজনের সময় বন্দুক চালাতে পারবে তো সে? বড় ভাইকে দেখতে খুব ইচ্ছে করল লিটুর। কিন্তু ঝোপ এবং গাছের গাঢ় ছায়া যেন গিলে খেয়েছে লিটুকে। দেখা যাচ্ছে না।
ঘুরলো টিটু। তাকালো গাঁয়ের দিকে। ইস্, কেন যে মরতে মীটিং-এ সবার সামনে বড় বড় কথা বলেছিল। বাবার সামনেও হামবড়া ভাব দেখিয়েছে, যেন কিছু গ্রাহ্য করছে না। পেছনে টাশ্শ্ শব্দে একটা মরা ডাল ভাঙল। চরকির মত সরল টিটু। কিন্তু কিছুই চোখে পড়ল না, আর কোনও শব্দও শোনা গেল না।
পেশীতে ঢিল পড়ল টিটুর। বন্দুকের কুঁদো ঠেকাল মাটিতে, হেলান দিল। ঘুম ঘুম আসছে।
আর ঠিক তখন ঘাড়ে সুচের মত তীক্ষ্ণ ব্যথা ফুটল। কেউ ওর গলায় ধারাল নখের থাবা বসিয়েছে।

তীব্র, তীক্ষ্ণ আর্ত-চিৎকারে ভেঙে খানখান হয়ে গেল বনভূমির নিশি-নৈঃশব্দ্য। লাফিয়ে উঠল লিটু। ওর ভাইয়ের গলা না? এক হাতে বন্দুক, অপর হাতে রামদা নিয়ে চিৎকারের উৎসের দিকে ছুটল ও। কিন্তু গাঢ় অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না।এমন সময় টিটুর ঘরঘরে গলা শুনতে পেল টিটু। গোঙাচ্ছে। গোঙানি লক্ষ্য করে ছুটল ও। আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল গোঙানি। ভাইকে দেখা যাচ্ছে না তবে ওর বেশ কাছে এসে পড়েছে লিটু বুঝতে পারছে। বন্দুকটা ফেলে দিল ও। অন্ধকারে গুলি করলে টিটুর গায়ে গুলি লাগতে পারে। দু’হাতে রামদা ধরে মাথার ওপর বনবন করে দু’পাক ঘোরাল লিটু। কিছু একটার সঙ্গে বাড়ি খেল ধারাল ফলা। রক্ত জল করা একটা চিৎকার শুনল লিটু। গা হিম হয়ে গেল ওর। টিটুর লাগেনি তো? ও তো আর গোঙাচ্ছেও না। অন্ধকারে হয়তো রামদার কোপ ভাইয়ের গায়ে লেগেছে। মারা গেছে সে। বুক ফেটে কান্না এল লিটুর। এমন সময় আবার গোঙাতে শুরু করল টিটু। স্বস্তির পরশ ঝিরঝির করে নামল লিটুর শরীরে। নাহ্, ওর ভাই মারা যায়নি।

হঠাৎ একটা শব্দ শুনতে পেল লিটু। মরা পাতার ওপর দিয়ে ছুটে যাচ্ছে কিছু একটা খচমচ শব্দ তুলে। ধেড়ে ইঁদুর-টিদুর হবে হয়তো। তবে ওটাকে দেখতে পেল না লিটু। সে আন্দাজে ভাইয়ের পাশে এসে বসল। তখন মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল ক্ষীণকায় চাঁদ। তার অতি অল্প আলোয় টিটুর দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠল লিটু। টিটুর ঘাড়ে গেঁথে আছে চিমসানো একটা কাটা হাত। কাটা কনুই থেকে রক্ত ঝরছে। হাতটার আঙুলে বড় বড় ধারাল নখ। নখগুলো খামচে ধরে আছে টিটুর কাঁধসহ ঘাড়। অন্ধকারে রামদার পোপে এ হাতটাই কেটে ফেলেছে লিটু। সময় মত এসে পড়ায় রক্ষা পেয়েছে টিটু। কাটা হাতের মায়া ত্যাগ করেই পালাতে হয়েছে দানবকে।

লিটু টিটুর ঘাড় থেকে টান মেরে ছুটিয়ে আনল কাটা হাত। নখের আঘাতে গর্ত হয়ে গেছে ঘাড়ে। রক্ত ঝরছে। ক্ষতস্থানে রুমাল বেঁধে দিল লিটু। তারপর ভাইকে নিয়ে রওনা দিল গাঁয়ে। কাটা হাতটা পড়ে রইল জঙ্গলে।
ওদের বাবা ভয়ার্ত শুকনো মুখে অপেক্ষা করছিল দোর গোড়ায়। ছোট ছেলের চিৎকার শুনতে পেয়েছে। দু’ছেলেই বেঁচে আছে দেখে আনন্দে কেঁদে ফেললো সে।
টিটুকে খাটিয়ায় শুইয়ে দিল ওরা। ডেটল আর পানি দিয়ে পরিস্কার করল ক্ষতচিহ্ন। আর কয়েক সেকেণ্ড দেরী করলেই খবর হয়ে যেত টিটুর। ওকে জ্যান্ত ফিরে পেত না লিটু। ভাইয়ের ঘাড়ে ব্যাণ্ডেজ করতে করতে দানবের কথা ভাবছিল লিটু। কাটা হাত নিয়ে রক্তক্ষরণে ধুঁকতে ধুঁকতে জঙ্গলেই হয়তো মরে পড়ে থাকবে দানবটা।
আহত টিটুকে নিয়ে লিটু এবং তার বাবা এত ব্যস্ত ছিল যে খেয়াল করেনি চুল্লির পাশে দাদী নেই। দাদী যে খিড়কির দরজা দিয়ে আবার রান্নাঘরে ঢুকেছেন তাও লক্ষ করেনি কেউ। দাদী কাঠের পিঁড়িতে বসে শীতল, ক্রুর চোখে দুই নাতির দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
কেউ শুনল না তাঁর অসংখ্য ভাঁজ পড়া মুখ থেকে হিসহিস শব্দ বেরিয়ে আসছে। এবং কেউ দেখল না কালো চাদরের নিচে তিনি রক্তাক্ত একটি মাংসপিণ্ড লুকিয়ে রেখেছেন।
¤¤¤ সমাপ্ত ¤¤¤

|| বন্ধু জীন ||

প্রথম ঘটনাটা হয় ঘরে, আমি ঘুমিয়ে আছি আমাকে কেউ যেন বলছে তুমি কি কাজ টা ভাল করলা আমি তো তোমার বন্ধু, ঘুম থেকে উঠে কাউকে দেখি না । কথাটা আম্মা কে বললাম কিন্তু কেউ কিছু বুঝলাম না । তার পর কিছু দিন কেটে যায় । আরেক রাতে মনে হল আমাকে কে যেন বলছে তুমি আজ তোমার বিছানায় ঘুমাবে না । তোমার বিপদ হবে, কি মনে করে যেন আমি অন্য বিছানায় ঘুমাই । সেদিন রাতে আমাদের রান্না ঘরে আগুন লেগে যায় । সব চেয়ে ভয়ের কথা হল রান্না ঘরটা আমার রুমের পাশে আর আগুন লেগেছে আমার রুমের পাশেই । আমি অবাক হয়ে গেলাম যে রাতে কে আমাকে ঐ কথা বলেছিল । আপা কে বললাম আপা বললেন এটা জ্বীন,সে আমার বন্ধু হতে চায় । আমি আপাকে বললাম কথাটা আর কাউকে না বলতে । আসার সময় আপা আমাকে বললেন তোমার শরীর তো এমনিতে বন্ধ করা কিন্তু তুমি যদি কাউকে আসার সুযোগ দাও তা হলে সে তোমার ক্ষতি করতে পারবে । তবে এ থেকে বাঁচার একটা উপায় আছে তুমি যদি তোমার হাতে কোন বন্ধনি রাখ (যেমন ঘড়ি,সুতা আংটি ব্রেসলেট) তা হলে সে তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না । যতক্ষণ তোমার হাতে ঐ জিনিস গুলো থাকবে । আমি চলে আসলাম, তার কয়েক মাস কোন ঘটনা ঘটে নাই । আমরা বাসা বদল করে আরেক এলাকায় চলে আসি । আসার এক বছরের মাথায় একদিন আমি কাজে ছিলাম, তখন আমি একা দুপুর ২টা বাজে দেখি একটা মেয়ে পাশের বাসার ছাদের উপর থেকে আমাকে ডাকতেছে মেয়ে টার মুখটা খুব কালো করে বলল তুমি বাসায় চলে যাও যত তারা তারি পার । এই বলে মেয়েটা কোথায় যেন চলে গেল আমি কিছু বলতে পারলাম না । আমার তখন আরও কিছু ঘটনার মাধ্যমে জানা হয়ে গেছে যে সে আমাকে মিথ্যা বলেনা । আমি সাথে সাথে কাজ বন্ধ করে বাসায় চলে আসি । আসার পর জানতে পারি আমার বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে । বিকালের দিকে খবর আসে আমার বাবা মারা গেছেন । (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহির রাজিঊন) আপনারা আমার বাবার জন্যে দোয়া করবেন তিনি যেন জান্নাত বাসি হোন ।

তার ঠিক ১৪দিনের সময় আমার ঐ আপা মারা যান । মারা যাওয়ার আগের রাতে আমি আপাকে সপ্নে দেখি । কিন্তু আমি বাসায় ছিলাম তার পরও কোন এক অজানা কারনে আমাদের মাটি দিতে যাওয়ার সময় দেরী হয়ে যায় । যে জায়গায় মাটি দেওয়া হয় সে জায়গা আমাদের নতুন বাসা থেকে এক ঘন্টার পথ কিন্তু সেই পথ আমরা বিশ মিনিটে কি ভাবে যাই তা আজো আমার কাছে অজানা রয়ে গেছে । তার পর আমরা মাটি দিয়ে চলে আসি, আপা মারা যাওয়ার আগে আম্মা কে কিছু কথা বলে যান আমি জানিনা কি ? তার পর থেকে আমাকে একা বিছানায় থাকতে দেওয়া হত । আগে আমি আমার বড় ভাই এর সাথে থাকতাম ।

by: Mdsumon Ahmed

রবিবার, ১০ জুন, ২০১২

ভৌতিক ৫


তখন আমরা ময়মনসিংহের ত্রিশালে থাকি। আমি তখন খুব ছোট। যেইদিনের ঘটনা সেদিন আমার আম্মু রান্না ঘরে মাছ ভাঁজছিলেন। এমন সময় খাকি প্যান্ট আর গেঞ্জি পড়া এক যুবক আসলো আমাদের কোয়ার্টারের বারান্দায়। আব্বু বাসায় ছিলেন। তিনি ভাবলেন হয়তো সাহায্য চাওয়ার জন্য এসেছে, কারন যুবকটি কোনো কথা বলছিল না। তখন আব্বু একটি ২ টাকার নোট বের করে ছেলেটিকে দিতে চাইলেন। কিন্তু সে তা নিলো না। তখন আব্বু আম্মুকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “ছেলেটা তো টাকা নিচ্ছে না।” তখন আম্মু বললেন ৫ টাকা দেয়ার জন্য। তখন আব্বু ৫ টাকা বের করে বারান্দায় এলেন ছেলেটিকে দেয়ার জন্য। আম্মুও বেরিয়ে এলেন এই অদ্ভুত যুবকটিকে দেখার জন্য। কিন্তু এবারো সেই যুবক টাকা গ্রহন করলো না। বরং ইশারায় আব্বুকে বললেন টাকাটা তিনি যেনো আম্মুর হাতে দেন।

।। করুণ মৃত্যু ।।

থার্টি ফার্স্ট নাইট।। রোহান ও তার কয়েক ফ্রেন্ড মিলে রাত ২ টা পর্যন্ত মজা করলো।। এখন হলে ফেরার পালা।। তারা মানুষ ৭ জন কিন্তু রিকশা পেলো দুটো।। ২ রিকশায় না হয় ৬ জন হল, কিন্তু রোহান??
ফ্রেন্ডরা তাকে বলল, “চল রোহান, এক রিকশায় ৪ জন উঠে পড়ি।।”
“নাহ রে।। তোরা যা।। আমি আসতে পারব।।” রোহানের উত্তর।।
চারিদিকে নিস্তব্ধতা।। খুব দূরে একটা কুকুর মতন কিছু দাঁড়িয়ে আছে।। খোলা আস্কাহের নিচে অন্ধকারকে সাথি করে হাঁটছিল রোহান।। হটাৎ একটা রিকশা দেখতে পেলো।।
“ভাই, হলে যাবেন??”
“জী যামু।।”
“কত??”
“১০ টাকা দিয়েন।।”
রোহান আকাশ থেকে পড়লো।। এতো রাত, কোন রিকশা নেই, তবুও ২০ টাকার জায়গায় ১০ টাকা রিকশা ভাড়া চাইলো!!
যাই হোক, রিকশায় চড়ে বসলো রোহান।। এই শুনশান নিরবতার মাঝে শুধু রোহান আর রিকশাওয়ালা।।

বোস্টনে ভূতুড়ে হোটেল

বোস্টনের চার্লসগেট হোটেলটি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা হোস্টেল হিসেবে ব্যবহার করত। কিন্তু একবার এক ছাত্র এখানে আত্মহত্যা করায় ব্যবস্থাপনা কমিটি এমারসন কলেজকে ১৯৮১ সালে তা বিক্রি করে দেয়। কিন্তু লিফটে এক ছাত্রীর মৃত্যু হওয়ায় ধরে নেয়া হল যে হোটেলটি ভূতুড়ে। অনেক শিক্ষার্থী নাকি রহস্যময় ছায়ার নির্দেশ পেয়েছিল। অনুসন্ধান করতে নেমে তারা এক রহস্যাবৃত সত্য উদঘাটন করল। হোটেলের দেয়ালের ভেতরে এক গোপন কামরায় তারা কালো জাদু চর্চারপ্রমাণ পায়। ১৯৯৪ সালে হোটেলটি নিলামে বিক্রি হয়ে গেলে কনডোমিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়।